top of page

সংক্ষিপ্ত ও রচনাধর্মী প্রশ্ন উত্তরঃ দুর্যোগ ও বিপর্যয় (Hazard and Disaster)

Updated: Jul 25, 2021


১. দুর্যোগ ও বিপর্যয় বলতে কি বোঝো?

  • দুর্যোগ

সাধারণভাবে দুর্যোগ ও বিপর্যয় শব্দ দুটি সমার্থক শব্দ রূপে ব্যবহৃত হলেও প্রকৃতপক্ষে বিষয়গত পার্থক্য রয়েছে।

আরবি শব্দ Ar-Zahr যার অর্থ মৃত্যু বা প্রাচীন অ্যাংলো ফরাসি শব্দ hasard থেকে দুর্যোগ শব্দটি এসেছে। বিভিন্ন প্রাকৃতিক ও মানবিক কারণে দ্বারা সংঘটিত যে সকল ঘটনা মানবজীবনে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে বা স্বাভাবিক জীবনযাত্রাকে ব্যাহত করে তবে বিশেষ ক্ষয়ক্ষতি করে না, তাকে দুর্যোগ বলা হয়।

  • বিপর্যয়

Disaster শব্দটি এসেছে ফরাসি শব্দ desastre থেকে যেখানে des শব্দের অর্থ bad/evil বা মন্দ এবং astre শব্দের অর্থ star বা তারা। এক কথায় bad star বা শয়তানের তারা।

প্রাকৃতিক বা মনুষ্য সৃষ্ট যেকোনো তাৎক্ষণিক বা দীর্ঘমেয়াদি ঘটনা যা মানুষের দুর্গতির কারণ হয় এবং বাইরের বা অপরের সাহায্য ছাড়া মোকাবিলা করা সম্ভব হয় না তাকেই বলে বিপর্যয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা WHO এর মতে, "any occurrence that causes damage, economic destruction, loss of human life and deterioration in health and health services on a scale sufficient to warrant and extraordinary responses from outside the affected community or area."

২. দুর্যোগ কত প্রকার ও কি কি?

দুর্যোগ সাধারণত তিন প্রকার-

  • ১. প্রাকৃতিক দুর্যোগঃ

যে সমস্ত দুর্যোগ কেবলমাত্র প্রাকৃতিক কারণে সৃষ্টি হয়ে থাকে, মানুষের কোন ভাব থাকে না তাদেরকে প্রাকৃতিক দুর্যোগ বলা হয়। যেমন- ভূমিকম্প, ঘূর্ণিঝড়, অগ্নুৎপাত, সুনামি প্রভৃতি।

  • ২. আধা প্রাকৃতিক দুর্যোগঃ

কিছু কিছু দুর্যোগ প্রধানত প্রাকৃতিক কারণেই ঘটে কিন্তু মানুষের বিচার বুদ্ধির অভাবে, অসচেতনতায়, কুসংস্কারাচ্ছন্ন মনোভাব, স্বার্থপরতা ইত্যাদির কারণে তার ভয়াবহতা বৃদ্ধি পায়, এই সমস্ত দুর্যোগকে আধা প্রাকৃতিক দুর্যোগ বলা হয়। যেমন- মুর্শিদাবাদ জেলার গঙ্গা নদীতে প্রতিবছর নদীর ভাঙ্গনে দুর্যোগের প্রাদুর্ভাব ঘটে।

  • ৩. মনুষ্য সৃষ্ট দুর্যোগঃ

যে সমস্ত দুর্যোগে প্রকৃতির খুব একটা প্রভাব থাকে না কেবলমাত্র মানুষের অসচেতনতা, অজ্ঞতা, কুসংস্কার ও অবৈজ্ঞানিক ক্রিয়া-কলাপ ইত্যাদির কারণে সংঘটিত হয়, সেই সমস্ত দুর্যোগকে মনুষ্য সৃষ্ট দুর্যোগ বলা হয়। যেমন- সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা।

৩. দুর্যোগের কিছু বৈশিষ্ট্য লেখ।

  • দুর্যোগ প্রাকৃতিক এবং মনুষ্যসৃষ্ট উভয় কারণেই সংঘটিত হতে পারে।

  • দুর্যোগে প্রবল ক্ষয়ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা খুব কম।

  • দুর্যোগ সাধারণত ক্ষুদ্র স্কেলে হয়।

  • দুর্যোগকে উপযুক্ত আধুনিক পরিকল্পনার মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করা যায়।

৪. বিপর্যয় এর কিছু বৈশিষ্ট্য লেখ।

  • বিপযর্য় জনজীবনের স্বাভাবিক জীবন-যাপন কে স্তব্ধ করে দেয়।

  • বৃহৎ মাত্রায় জীবন সম্পত্তি ও বাসস্থানের বিনাশ ঘটে।

  • বাইরে থেকে সাহায্যের প্রয়োজন হয়।

  • দেশের অর্থনীতির উপর ঋণাত্মক প্রভাব পড়ে।

৫. খরার মূল কারণ গুলি কি কি?

ফরাজ এমন প্রাকৃতিক কারণে সৃষ্টি হতে পারে ঠিক তেমনি মানুষের দ্বারা সৃষ্টি হতে পারে।

প্রাকৃতিক কারণঃ

  • বৃষ্টির অনিশ্চয়তাঃ কোন একটি অঞ্চলে স্বাভাবিক বৃষ্টিপাতের চেয়ে কম পরিমাণে বৃষ্টিপাত হলে খরা সংঘটিত হয়।

  • গ্রীন হাউজ প্রভাবঃ গ্রীন হাউসের প্রভাব এর ফলে পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পায় ফলে খরা পরিস্থিতির উদ্ভব হয়ে থাকে।

  • বাষ্পীভবনঃ যদি বৃষ্টিপাতের চেয়ে বাসভবন বেশি হয় তাহলে খরা সৃষ্টি হতে পারে।

মানবিক কারণ

  • বৃক্ষ ছেদনঃ ও বৈজ্ঞানিক ভাবে বৃক্ষছেদন করার ফলে বাতাসে co2 এর পরিমাণ বৃদ্ধি পেলে এবং জলীয়বাষ্পের পরিমাণ কমে গেলে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ কমে যায় ও খরার সৃষ্টি হয় ‌

  • নগরায়নঃ শহরে পাকা বাড়ি ও জনবসতির পরিমাণ ক্রমাগত বৃদ্ধি ও কলকারখানার পরিমাণ বৃদ্ধির ফলে স্থানীয় উষ্ণতা বেড়ে যাওয়ায় ফলস্বরূপ খরা সৃষ্টি হতে পারে।

৬. পাত সংস্থানগত বিপর্যয় কি?

শিলামন্ডলীয় পাতের অভিসারী ও প্রতিসারী চলনের প্রভাবে সংযোগস্থলে ভুমিকম্প, অগ্নুতপাত, সুনামির মত বিপর্যয় লক্ষ্য করা যায়, এই ধরনের বিপর্যয়কে পাত সংস্থানগত বিপর্যয় বলে।

৭. দুর্যোগ ও বিপর্যয়ের মধ্যে পার্থক্য গুলি কি কি?

  • সংজ্ঞাঃ

বিভিন্ন প্রাকৃতিক ও মানবিক কারণে দ্বারা সংঘটিত যে সকল ঘটনা মানবজীবনে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে বা স্বাভাবিক জীবনযাত্রাকে ব্যাহত করে তবে বিশেষ ক্ষয়ক্ষতি করে না, তাকে দুর্যোগ বলা হয়।

প্রাকৃতিক বা মনুষ্য সৃষ্ট যেকোনো তাৎক্ষণিক বা দীর্ঘমেয়াদি ঘটনা যা মানুষের দুর্গতির কারণ হয় এবং বাইরের বা অপরের সাহায্য ছাড়া মোকাবিলা করা সম্ভব হয় না তাকেই বলে বিপর্যয়।

  • কারণ

দুর্যোগ প্রাকৃতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক কারনের মিলিত ফল।

বিপর্যয় মানুষ ও প্রাকৃতিক ক্রিয়ার ফল।


  • গতিবেগঃ

দুর্যোগ ধীর বা দ্রুত গতিতে সম্পন্ন হয়।

বিপর্যয় সর্বদা দ্রুত গতিতে সম্পন্ন হয়।

  • এলাকাগত পার্থক্যঃ

দুর্যোগ স্বল্প অঞ্চল জুড়ে হয়।

বিপর্যয় বৃহৎ অঞ্চল জুড়ে হয়।

  • মানব জীবনে প্রভাবঃ

দুর্যোগ জনজীবনে স্বল্পবিস্তর ক্ষতি সাধন করে।

বিপর্যয় জীবনযাত্রাকে রুদ্ধ করে দেয়।

  • সম্পদের বিনাশঃ

দুর্যোগের ফলে সম্পদের বিশেষ ক্ষতি হয় না।

বিপর্যয়ের ফলে সম্পদের ব্যাপক ক্ষতি হয়।

  • নিয়ন্ত্রণঃ

দুর্যোগকে আধুনিক পরিকল্পনার সাহায্য নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।

বিপর্যয়কে রোধ করা সম্ভব নয়।

৮. প্রাকৃতিক বিপর্যয় কাকে বলে?

সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক কারণে সৃষ্ট কোনো আকস্মিক ঘটনার প্রভাবে মানুষের স্বাভাবিক জনজীবন সম্পূর্ণরূপে স্তব্ধ হয়ে গেলে এবং বিপুল পরিমাণে প্রাণ ও সম্পত্তির হানি ঘটলে তাকে প্রাকৃতিক বিপর্যয় বলে। যেমন- অগ্নুৎপাত, ঘূর্ণিঝড়, দাবানল বৃহৎ আকারে ঘটলে সেগুলি একটি প্রাকৃতিক বিপর্যয়।

৯. মনুষ্য সৃষ্ট বিপর্যয় কি?

মানবিক কার্যাবলীর ফলে সৃষ্ট যে কোনো আকস্মিক ঘটনা যখন মানুষের সামাজিক জীবনকে সম্পূর্ণ স্তব্ধ করে এবং বিপুল পরিমাণে জীবন সম্পত্তির ক্ষতি করে তখন তাকে মনুষ্য সৃষ্ট বিপর্যয় বলে। যেমন- পরমাণু বিপর্যয়, দুর্ভিক্ষ, মহামারী ইত্যাদি বৃহৎ আকারে ঘতলে সেগুলো মনুস্য সৃষ্ট বিপর্যয়ের অন্তর্ভুক্ত।

82 views0 comments