top of page

হিমবাহের কার্য: অতি সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর (VSAQ)

১. হিমবাহ কাকে বলে?

বিশাল আকার বরফের স্তুপ অভিকর্ষ টানের ধীরে ধীরে অনুযায়ী নিচের দিকে নেমে এলে তাকে বলা হয়। হিমবাহ কে বরফের নদীও বলা হয়।


২. হিমরেখা কি?

পার্বত্য অঞ্চলে যে কাল্পনিক সীমা রেখার উপর সারাবছর বরফ বা তুষার জমে থাকে, তাকে হিমরেখা বলা হয়।


৩. মহাদেশীয় হিমবাহ কাকে বলে?

উচ্চ অক্ষাংশে মহাদেশের উপর বিশাল আকার বরফের স্তুপকে মহাদেশীয় হিমবাহ বলা হয়। সুমেরু ও কুমেরু অঞ্চলে এই ধরনের হিমবাহ লক্ষ্য করা যায়।

৪. পার্বত্য হিমবাহ কাকে বলে?

পার্বত্য এলাকায় যে সমস্ত হিমবাহ লক্ষ্য করা যায় তাদেরকে পার্বত্য হিমবাহ বলা হয়। আলাস্কার হুবার্ড পৃথিবীর বৃহত্তম পার্বত্য হিমবাহ।

৫. পাদদেশীয় হিমবাহ কাকে বলে?

পর্বত চূড়ার পাদদেশে বরফ জমে যে সমস্ত হিমবাহ তৈরি হয়, তাদেরকে পাদদেশীয় হিমবাহ বলা হয়। আলাস্কার ম্যালাসপিনা বিখ্যাত পাদদেশীয় হিমবাহ এর উদাহরণ।


৬. হিমশৈল কি?

সমুদ্রের জলে ভাসমান বিশাল আকার বরফের স্তুপকে হিমশৈল বলা হয়। হিমশৈলের মাত্র ১/৯ অংশ জলের উপরে ভেসে থাকে।


৭. হিমবাহের ক্ষয় পদ্ধতি গুলি কি কি?

হিমাবাহ সাধারণত অবঘর্ষ এবং উৎপাদন এই দুই পদ্ধতিতে ক্ষয়কার্য করে।

৮. সার্ক কি?

পার্বত্য অঞ্চলে হিমাবাহ অবঘর্ষ উৎপাদন প্রক্রিয়ায় ক্ষয় করে হাতল যুক্ত ভূমিরূপের সৃষ্টি করে যা দেখতে অনেকটা আরাম-কেদারা বা যুক্ত চেয়ারের মতো, এদেরকে সার্ক বলা হয়। জার্মান ভাষায় একে কার, স্কটল্যান্ডে করি বলা হয়।


৯. করি হ্রদ কাকে বলে?

সার্কের মস্তক প্রাচীর এর পরবর্তী অংশ অবতল আকৃতির ওতা চৌকাট পর্যন্ত বিস্তৃত অনেক সময় এই অংশে জল জমে তখন একে সার্ক হ্রদ বা করি হ্রদ বা টার্ন বলা হয়।


১০. হিমসিড়ি বা হিমসোপান কি?

হিমবাহ যুক্ত অঞ্চলে অসম ক্ষয় কার্যের ফলে উপত্যাকা বরাবর ধাপের সৃষ্টি হয় একেই হিমসিড়ি বা হিমসোপান বলে।


১১. প্যাটার্নস্টার হ্রদ কি?

হিম সিঁড়ি অংশে হিমাবাহ সরে গিয়ে জল জমে হ্রদের সৃষ্টি হলে তাকে প্যাটার্নস্টার হ্রদ বলে।


১২. ঝুলন্ত উপত্যকা কাকে বলে?

প্রধান হিমবাহ দ্বারা সৃষ্ট উপত্যকা ক্ষুদ্র উপ হিমবাহ উপত্যকা অপেক্ষা বেশি গভীর হয়। এরূপ অবস্থায় উপ হিমবাহ উপত্যকা মনে হয় যেন প্রধান হিমবাহ উপত্যকার উপর ঝুলন্ত অবস্থায় আছে, তাই একে ঝুলন্ত উপত্যকা বলা হয়।

১৩. ক্র্যাগ ও টেল কি?

হিমবাহের প্রবাহ পথে যদি কোন কঠিন শিলা থাকে তাহলে তা হিমবাহ দ্বারা বিশেষ ক্ষয়প্রাপ্ত হয় না, শুধু এর প্রান্তভাগ খাড়া হয়ে যায় একে ক্র্যাগ বলা হয়।

এই অংশের পার্শ্ববর্তী অপেক্ষাকৃত কোমল শিলা ক্ষয়ের হাত থেকে রক্ষা পেয়ে কম ঢাল বিশিষ্ট দীর্ঘাকার লেজের ন্যয় অবস্থান করে, একে টেল বলে।


১৪. রসে মতানে কি?

এটি একটি অদৃশ্য পাহাড় বিশেষ যার হিমবাহের প্রবাহপথ দিকটি অবঘর্ষ প্রক্রিয়া মসৃন ও অল্প ঢাল যুক্ত এবং বিপরীত দিকটি উৎপাদন প্রক্রিয়া দ্বারা অমসৃণ ও খাড়া হয়ে থাকে। কাশ্মীর উপত্যকায় অনেক রসে মতানে লক্ষ্য করা যায়।


১৫. ফিয়র্ড কাকে বলে?

উপকূলবর্তী অঞ্চলে হিমবাহের ক্ষয়কার্যের ফলে হিমবাহ উপত্যকার সমুদ্রপৃষ্ঠ অপেক্ষা গভীর হয়, পরবর্তীকালে জলমগ্ন হলে একে ফিয়র্ড বলা হয়। কম গভীরতা যুক্ত ফিয়র্ডকে ফিয়ার্ড বলা হয়।


১৬. গ্রাবরেখা কি?

হিমবাহের ক্ষয়কার্যের ফলে সৃষ্ট দ্রব্যগুলি সিংহের সাথে বাহিত হয়ে উপত্যাকার বিভিন্ন অংশে সঞ্চিত হয়, একে গ্রাবরেখা বলা হয়। গ্রাবরেখা তিন প্রকার- প্রান্ত গ্রাবরেখা, পার্শ্ব গ্রাবরেখা, ভূমি গ্রাবরেখা।


১৭. ড্রামলিন কি?

হিমবাহের বিভিন্ন আকৃতির ক্ষয়জাত পদার্থ কোন স্থানে সঞ্চিত হয়ে উল্টানো নৌকা বা উল্টানো ছুরির মতো ভূমিরূপ সৃষ্টি করলে তাকে ড্রামলিন বলা হয়।


১৮. এসকার কি?

এটি হল হিমবাহ ও জলধারার সম্মিলিত কার্যের ফলে সৃষ্ট একটি ভূমিরূপ। হিমবাহ বাহিত বিভিন্ন আকৃতির ক্ষয়জাত পদার্থ জলস্রোতের সঙ্গে পরিবাহিত হয়ে পর্বতের পাদদেশে সঞ্চিত হয়ে আঁকাবাঁকা শৈলশিরা সৃষ্টি করে, একে এসকার বলা হয়।


১৯. কেম কাকে বলে?

উপত্যকার নিচের অংশে হিমবাহ গলতে শুরু করলে উপত্যকার গাত্র এবং হিমবাহের মধ্যে যে শূন্যস্থান তৈরি হয় তাকে ফসি বলে। এই অংশে উপত্যাকার পার্শ্বদেশ থেকে পদার্থ এসে জমা হয় এদেরকে কেম বলা হয়।


২০. হিমকর্দ কি?

হিমবাহ গলে গেলে তার নিচে বালি ও কাদার সঙ্গে বিভিন্ন আকৃতির গন্ড শিলা জমা হতে দেখা যায় এদেরকে একসাথে হিমকর্দ বা টিল বলা হয়।



20 views0 comments